বাঙ্গালী
Monday 11th of December 2017
code: 80891
পরনিন্দা ও তওবা
সংগ্রহ: মুহাম্মাদ সুলতানিয়্যেহ

মরহুম আয়াতুল্লাহ হাজ শেইখ গোলাম রেজা ইয়াযদী হতে বর্ণিত: একদিন তাঁর মা তাঁর সম্মুখে কারো সম্পর্কে গিবত (নিন্দা) করলেন। তিনি নিজ মাতাকে বললেন: মা তুমি তওবা কর! কিন্তু তার মা তার কথায় তোয়াক্কা করলো না। অতঃপর তিনি নিজেকে আঘাত করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: যতক্ষণ তুমি তওবা না করবে, ততক্ষণ আমি নিজেকে এভাবে আঘাত করতে থাকবো। তার মা তাকে এ অবস্থায় দেখে খুবই কষ্ট পেলেন। যাতে তিনি এরচেয়ে বেশী আর নিজেকে আঘাত না করেন তাই তিনি তওবা করলেন। এখানে প্রশ্ন জাগে যে, কেন হাজ শেইখ গোলাম রেজা ইয়াযদী নিজের মাকে তওবা করতে বললেন? কি কারণে তিনি নিজের মাকে তওবা করতে বাধ্য করার লক্ষ্যে নিজেকে আঘাত করতেও কুণ্ঠা বোধ করলেন না? উত্তর হল: এ মহান ব্যক্তিত্ব আল্লাহ এবং তাঁর মনোনিত বান্দাদের বিষয়ে এবং কেয়ামত ও বিচার দিবসের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার মা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করায় জাহান্নামের কঠিন আযাবের মুখোমুখি হবেন। যেহেতু তিনি নিজ মাতাকে প্রচণ্ড ভালবাসতেন তাই মাকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচানোর লক্ষ্যে তিনি এ মাধ্যমের আশ্রয় নেন। এ ঘটনা হতে অপর যে, বিষয়টি স্পষ্ট হয় তা হল: যেহেতু যে কোন মুহূর্তে মানুষের মৃত্যু ঘনিয়ে আসতে পারে, তাই জ্ঞানী ব্যক্তিরা সব সময়ই এমন অবস্থায় নিজেকে প্রস্তুত রাখে যে অবস্থাকে মহান আল্লাহ ভালবাসেন। আর যা কিছু আল্লাহ পছন্দ করেন না তা যদি কখনও আঞ্জাম দিয়ে ফেলে তবে সাথে সাথে তওবা করে তা নিজের হতে দূর করে দেন।

user comment
 

latest article

  দুঃখ-কষ্ট মোকাবেলার উপায়
  ইমাম জা’ফর সাদিক(আ.): ইসলামের অনন্য ...
  বিশ্বনবী মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর শুভ ...
  আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব
  পাঁচ-ওয়াক্ত নামাজের দোয়া বা তা‘কীবাত
  কবর জিয়ারত
  মহানবীর (সা.) আহলে বাইতের শিক্ষা (২য় ...
  আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (আ.) এর মুনাজাত
  ইসলামে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির গুরুত্ব
  নাহজুল বালাগায় স্রষ্টাতত্ত্ব ও ...