বাঙ্গালী
Thursday 18th of April 2024
0
نفر 0

স্বাগতম হে মাহে রমযান

স্বাগতম হে মাহে রমযান

শাবান মাসের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে একফালি বাঁকা চাঁদ উদিত হওয়ার মাধ্যমে রহমত, বরকত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বারে ফিরে আসে পবিত্র  রমজান মাস।বছরে ১২টি মাস। তন্মধ্যে রমযান মাস পৃথিবীর প্রতিটি মুসলমানের নিকট উৎসবের মাস।পবিত্র কোরআনে কেবলমাত্র এই রমযান মাসেরই নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন : রমযান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য দিশারী এবং এতে পথনির্দেশ ও সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসে (স্বস্থানে) উপস্থিত থাকবে সে যেন রোযা রাখে। (সূরা বাকারা : ১৮৫)  এ থেকে বোঝা যায যে, আল্লাহর কাছে এ মাসটির অসামান্য মর্যাদা রয়েছে। যেমনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই বলেছেন, ‘আস সাওমু লি, অ-আনা আজযি বিহী' অর্থাৎ ‘রোযা আমার জন্যে রাখা হয এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো।' পরকালে যে তিনি কী পুরস্কার দেবেন তার কিছুটা ইঙ্গিত নবী কারিম (সাঃ) আমাদের দিয়েছেন। সে থেকে রোযাদারগণ নিশ্চয়ই পরিতৃপ্ত হবার আনন্দ পাবেন। রাসূলে খোদা বলেছেন, ‘রমযান এমন একটি মাস যে মাসে আল্লাহ তোমাদের জন্যে রোযা রাখাকে ফরজ করে দিয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রোযা রাখবে, তার জন্যে রোযার সেই দিনটি হবে এমন যেন সবেমাত্র সে মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে, অর্থাৎ রোযাদার তার সকল গুণাহ থেকে মুক্তি পেয়ে নিষ্পাপ শিশুটির মতো হয়ে যাবে।
 এ মাসেই নাজিল হয়েছে মানবতার মুক্তির দিশারী পবিত্র আল কুরআন। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:  “নিশ্চয়ই আমরা এটা (কোরআন) মহিমান্বিত রজনীতে অবতীর্ণ করেছি,  কিসে তোমাকে অবহিত করল মহিমান্বিত রজনী কী?  মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ”।  রমযান আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাস, কোরআনের ভাষায় যাকে ‘রামাযান’ বলা হয়েছে। মূল শব্দ রা-মীম-দোয়াদ । এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন, প্রজ্বলন, জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযম ও কৃচ্ছ্রপূর্ণ জীবন যাপন করে এবং ষড়রিপুকে দমন করে মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম রমযান। রোযাকে বলা হয়েছে জুন্নাহ বা ঢালস্বরূপ। কারণ রোযার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দারা দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পায়,মুক্তিও পায়। রাসূলে খোদা বলেছেন এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দান করেন। তাহলে রোযা যেমন জাহান্নামে যাবার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে,তেমনি জাহান্নামে যাবার পরও সেখান থেকে মুক্তি লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আল্লাহর এতো বড়ো রহমতের বিষয়টিকে যে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হবে-তারচেয়ে হতভাগ্য আর কে থাকতে  অসাধারণ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাহে রমযানে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা সুদৃঢ় হয়, তাকওয়া বা আল্লাহভীতির নিদর্শন প্রকাশ পায় এবং অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি সঞ্চারিত হয়। রমযান মাসে রোজা পালন করে খোদাভীরুতা অর্জনের মাধ্যমে সংযত আচরণ এবং আল্লাহর হুকুম পালনের যোগ্যতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যায়।
ইসলামধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে রোজা। নামাজের পরেই মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ তাআলা যে ইবাদত ফরজ করেছেন তা হচ্ছে মাহে রমযানের রোজা। দ্বিতীয় হিজরি সালে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। তবে এই রোজা অন্যান্য জাতির ওপরও ফরজ ছিল। আল্লাহর তরফ থেকে যত শরিয়ত দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে, এর প্রতিটিতেই রোজা পালনের বিধি-ব্যবস্থা ছিল। এতে কেবল সংখ্যা, নিয়মকানুন ও সময়ের ব্যবধান ছিল। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৩)
রাসূলে খোদা বলেছেন,রাইয়্যান নামে বেহেশতের একটি দরোজা আছে। কিয়ামতের দিন ঐ দরোজা দিয়ে কেবলমাত্র রোযাদাররাই প্রবেশ করবে। রোযাদারদেরকে ডেকে ডেকে বেহেশতে প্রবেশ করানোর পর ঐ দরোজাটি বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যত্র বলা হয়েছে যে লোকই সেই দ্বারপথে প্রবেশ করবে,সে-ই পান করবে। আর যে-ই পান করবে,সে আর কোনোদিন পিপাসার্ত হবে না। এই হাদীসে উল্লেখিত রাইয়্যান শব্দটির অর্থই হলো সদাপ্রবহমান প্রস্রবণ। অতএব রোযাদার বন্ধুরা!ক্ষুধা-তৃষ্ণাকে উপেক্ষা করে সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগ করুন-আর পরকালে ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার ও মর্যাদা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করুন।
সবশেষে হযরত সালমান ফারসি ( আ ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসের অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করছি। রাসূলে খোদা বলেছেন.... রমযান সবর,ধৈর্য ও তিতীক্ষার মাস।আর সবরের প্রতিফল হলো আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত প্রাপ্তি।এটা পারস্পরিক হৃদ্যতা এবং সৌজন্য প্রদর্শনের মহিমা। এ মাসে মুমিনের রেযক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করাবে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি দেবেন।তাকে আসল রোযার সওয়াব দেওয়া হবে কিন্তু সেজন্যে রোযাদারের সওয়াব কমানো হবে না।........... আর যে ব্যক্তি এই মাসে নিজের অধীন লোকদের শ্রম-মেহনত হাল্কা বা হ্রাস করে দেবে,আল্লাহ তায়ালা তাকেঁ ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেবেন। এই সুসংবাদ কেবল রোযাদারদের জন্যে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে রমযানের তাৎপর্য উপলব্ধি করার তৌফিক দিন।

0
0% (نفر 0)
 
نظر شما در مورد این مطلب ؟
 
امتیاز شما به این مطلب ؟
اشتراک گذاری در شبکه های اجتماعی:

latest article

ইসলামের দৃষ্টিতে কর্ম ও শ্রম (২য় ...
ঈদুল ফিতর: ইসলামী ঐক্য ও ...
সংগীত ও বাদ্য (الموسيقى و الغناء)
কোরআনের ঐতিহাসিক অলৌকিকতা
স্বাগতম হে মাহে রমযান
শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস ...
আল কোরআনের অলৌকিকতাঃ পৃথিবী
আল মুরাজায়াত (পত্রালাপ)
দুই নামাজ একসাথে পড়ার শরয়ী দললি
শিয়া-সুন্নি বিরোধ কেন? শিয়ারা কি ...

 
user comment