বাঙ্গালী
Tuesday 21st of May 2024
0
نفر 0

সূরা ইউসুফ; (১৯তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৯তম পর্ব)



সূরা ইউসুফ; আয়াত ৬৬-৬৮

সূরা ইউসুফের ৬৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,

قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُ مَعَكُمْ حَتَّى تُؤْتُونِ مَوْثِقًا مِنَ اللَّهِ لَتَأْتُنَّنِي بِهِ إِلَّا أَنْ يُحَاطَ بِكُمْ فَلَمَّا آَتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ اللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ

“(হযরত ইয়াকুব) বললেন, আমি তাকে কখনই তোমাদের সঙ্গে পাঠাবো না-যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে শপথ করে বল যে, তাকে আমার নিকট ফেরত নিয়ে আসবেই। অবশ্য যদি তোমরা (নিরাপদে থাক) ও একান্ত অসহায় হয়ে না পড়। অতঃপর যখন তারা প্রতিজ্ঞা করল তখন (হযরত ইয়াকুব) বললেন, আমরা যে বিষয়ে কথা বলেছি, আল্লাহ তার বিধায়ক।" (১২:৬৬)

হযরত ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা মিশর থেকে খাদ্যশস্য নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর পিতার নিকট মিশরের অবস্থা বর্ণনা করল এবং হযরত ইয়াকুব (আ.) কে জানালো যে, ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য পাওয়ার জন্য আজিজে মেসর বা মিশরের রাজা একটি শর্ত আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ছোট ভাইকে সঙ্গে নিলে খাদ্যশস্য পাওয়া যাবে-নচেত কারো জন্যই বরাদ্দ থাকবে না। তাই আপনি বেনইয়ামিনকেও আমাদের সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দিন, আমরা তার পুরোপুরি হেফাজত করবো এবং তার কোনো কষ্ট হবে না।

৬৬ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে, ছেলেদের প্রস্তাবের জবাবে হযরত ইয়াকুব (আ.) বললেন, আমি তোমাদের কথা কিভাবে বিশ্বাস করতে পারি? কারণ ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা একই ভাষায় আশ্বাস দিয়েছিলে। কিন্তু তোমাদের কথা বিশ্বাসের জন্য আমি বিপদ ভোগ করেছি। ছেলেদের পরিবারের প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তিনি বেনইয়ামিনকে মিশরে পাঠাতে রাজি হলেন, তবে তিনি পুত্রদেরকে বললেন, তারা যেন আল্লাহর নামে শপথ করে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, বেনইয়ামিনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো গাফেলতি করবে না। এরপর তারা আল্লাহর কসম খেয়ে অঙ্গীকার করল। হযরত ইয়াকুব (আ.)ও কসমের গুরুত্ব পুত্রদের স্মরণ করিয়ে দিলেন।

এই আয়াতে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, লাভ-ক্ষতি মানুষের ক্ষমতাধীন নয়। আল্লাহর ওপর নির্ভর করা উচিত। এর পাশাপাশি যে কোনো কাজ বা লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রমাণ বা সাক্ষী রাখা উচিত।

এবার ৬৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,

وَقَالَ يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُتَفَرِّقَةٍ وَمَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ

“(হযরত ইয়াকুব ) বললেন, হে আমার পুত্রগণ! ( মিশরে প্রবেশের সময়) সবাই একই প্রবেশ দ্বার দিয়ে যেও না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। আল্লাহর কোনো বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। বিধান বা নির্দেশ আল্লাহরই। তার ওপর আমি ভরসা করি এবং তারই ওপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।" (১২:৬৭)

এই আয়াতে বেনইয়ামিনকে সঙ্গে করে হযরত ইউসুফের ভাইদের দ্বিতীয়বার মিশর যাত্রা সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। এই যাত্রার প্রাক্কালে হযরত ইউসুফ (আ.) ছেলেদের উপদেশ দিয়ে বললেন, তোমরা ১১ ভাই শহরের একই প্রবেশ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না। নগর প্রাচীরের কাছে পৌঁছে কয়েকজনে বিভক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর এই উপদেশের কারণ হচ্ছে, এতগুলো সুদর্শন যুবককে একসঙ্গে প্রবেশ করতে দেখলে জনমনে বিদ্বেষ বা ভুল ধারণার জন্ম হতে পারে কিংবা তাদের ওপর কারো কুদৃষ্টি পড়তে পারে।

হযরত ইয়াকুব (আ.) এটাও স্মরণ করিয়ে দিলেন, আল্লাহ তোমাদের ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন আমার এই উপদেশ তা খণ্ডন করতে পারবে না। কারণ আল্লাহর নির্দেশ নড়চড় করার ক্ষমতা কারো নেই।

এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করা মানুষের সাধ্যাতীত। তাঁর নির্দেশ ও ইচ্ছা পরিবর্তনের শক্তি কারো নেই। মানুষের উচিত তার জ্ঞান ও বোধশক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া, আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। কারণ আল্লাহ চাইলেই মানুষের অভিপ্রায় ও পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হয়। তার অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না।

সূরা ইউসুফের ৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,

وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُمْ مَا كَانَ يُغْنِي عَنْهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

“তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদেরকে রক্ষা করতে পারলো না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্ত তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়। " (১২:৬৮)

এই আয়াতে পুনরায় বলা হচ্ছে, হযরত ইয়াকুব (আ.) এর উপদেশ এবং ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে তার ছেলেদের মিশরে প্রবেশের উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে, আল্লাহ তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা থেকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। হযরত ইয়াকুব (আ.) পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভর করেই সন্তানদেরকে মিশরে পাঠিয়েছিলেন, তিনি মনের প্রশান্তি এবং পুত্ররা তার নির্দেশের কতখানি আজ্ঞাবহ তা দেখার জন্যই ওই উপদেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া একজন পয়গম্বর হিসেবে তার সব উপদেশই খোদায়ী জ্ঞান থেকে উৎসারিত। তাই পয়গম্বরদের উপদেশও বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

 

0
0% (نفر 0)
 
نظر شما در مورد این مطلب ؟
 
امتیاز شما به این مطلب ؟
اشتراک گذاری در شبکه های اجتماعی:

latest article

গাদিরে খুম
শিয়া-সুন্নি বিরোধ কেন? শিয়ারা কি ...
আল-কুরআনের মু’জিযা: একটি ...
কোরবানির ইতিহাস
হযরত মুসা (আ.)'র মু'জিজার কাছে ...
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনী-২য় পর্ব
আল কুরআনে বিশ্বনবীর (সাঃ) প্রশংসা
ইসলামের অন্যতম কাণ্ডারি মজলুম ...
জান্নাতুল বাকি ধ্বংসের নেপথ্যে ...
নবীবংশের এগারতম নক্ষত্র ইমাম ...

 
user comment